রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের বর্ধিত সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৯বিজিবির টহল দলের হাতে ২০হাজার টাকার ফেনসিডিলসহ আটক-১ রাত পোহালেই শাহাবাজপুর ইউপির সদস্য পদে উপ নির্বাচন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের ৫২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন বুড়িগোয়ালিনীতে প্রকৃত মৎস্য চাষীদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু বিক্রি করে ট্রলি কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ- পিতাকে হত্যা করলেন পুত্র শিবগঞ্জে আগুনে তিনটি বাড়ি ভম্মিভূত প্রথমবারের মতো হাবিপ্রবিতে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিল্প সচিব কে এম আলী আজম’র ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় শিবগঞ্জে বিজিবি’র অভিযানে ৮১হাজার টাকার মাদকসহ আটক-১ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ খুলনায় পৌঁছেছেন, সবাবেশ করবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেমে নেই সড়ক দুর্ঘটনা সাতক্ষীরায় নিহত-২ খুলনায় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত গোমস্তাপুরে নয়াদিয়াড়ী ক্রিকেট লীগ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত কারিগরি শিক্ষা বস্তির শিশুদের ঝরে পড়া রোধের মোক্ষম হাতিয়ার 
-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
খুলনার দাকোপের চিহ্নিত প্রতারক জালাল গ্রেফতার খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন খুলনা’সহ আট জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২৫ আজ খুলনায় বিএনপির মহাসমাবেশ খুলনা মহানগরীর বাগমারায় রহিম সড়কে ১ম মরহুম নুরুজ্জামান খোকন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

২১ আগস্ট মঞ্চে গ্রেনেড ছোড়েন ইকবাল : র‌্যাব

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৮ জন পড়েছেন

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হামলার ১৬ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানিয়েছে, ওই সময় শেখ হাসিনার সভা মঞ্চে এই জঙ্গি গ্রেনেড ছুড়েছিলেন।

আদালতের রায়ের তিন বছর পর মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইকবালকে ঢাকার দিয়াবাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‌্যাব।

আসামি মো. ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিমকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব সদর দপ্তরে মিডিয়া ব্রিফিং করেন মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মুফতি হান্নানের নির্দেশে তিনি মঞ্চের দিকে গ্রেনেড ছুড়েছিলেন।

র‍্যাব ডিজি বলেন, জঙ্গি ইকবালের বাবার নাম আব্দুল মজিদ মোল্লা। তার বাড়ি ঝিনাইদহে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিল।

তিনি বলেন, ‘সে ১৯৯৪ সালে ঝিনাইদহের কেসি কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিল বলে জানিয়েছে। ইকবাল ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মজীবী হিসেবে অবস্থান করে। দেশে ফিরে এসে জঙ্গি ইকবাল আইএসডি ফোন এবং অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইকবাল দেশে অবস্থানকালে সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিরোধ-কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে এবং ২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনায় একটা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে। সে ঝিনাইদহের এক স্থানীয় জঙ্গি সদস্যের মাধ্যমে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশে যোগদান করে। ২০০৩ সালে সে মুফতি হান্নান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে আসে এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে থাকে।’

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘২০০৪ সালের আগস্টে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে হুজিবি নেতা মুফতি হান্নানসহ অন্যান্যদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। সে মুফতি হান্নানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করত।’

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিষয়ে সে জানায়- মুফতি হান্নানের নির্দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। হামলা পরিচালনার জন্য মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল বলে সে উল্লেখ করেছে।’

হামলার সময় সে মঞ্চকে উদ্দেশ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ে। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে গিয়ে আত্মগোপন করে।

ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় জানিয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, ২০০৮ সালে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে তার নিজ বাড়িতে, পরবর্তীতে গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আত্মগোপনে থাকাকালে সে (ইকবাল) নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশার মেকানিক ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করে ছিল বলে সে জানায়।

তিনি বলেন, র‌্যাবের অভিযানের কারণে সে ২০০৮ সালে দেশ ত্যাগ করে। প্রবাসে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় প্রথমে সেলিম এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে। এক পর্যায়ে সে প্রবাসে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ২০২০ সালের শেষের দিকে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরত এসে ইকবাল আত্মগোপনে থেকে সমমনাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করে।

র‌্যাব ডিজি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা জঙ্গি ইকবাল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।

আহত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শত নেতা-কর্মী।

এই গ্রেনেড হামলার মামলায় দণ্ডিত ৩৩ আসামি কারাগারে থাকলেও পলাতক ছিলেন ১৬ জন। ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন পলাতক রইলেন ১৫ জন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয় আরও ১১ জনের।

তারেক ছাড়া পলাতকরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (যাবজ্জীবন), কুমিল্লার মুরাদনগরের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (যাবজ্জীবন), অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (দুই বছর কারাদণ্ড), ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন আহমদ (দুই বছর কারাদণ্ড), হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ (মৃত্যুদণ্ড), জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিন (মৃত্যুদণ্ড), মহিবুল মুত্তাকিন (যাবজ্জীবন), আনিসুল মোরসালিন (যাবজ্জীবন), মোহাম্মদ খলিল (যাবজ্জীবন), মাওলানা লিটন (যাবজ্জীবন), জাহাঙ্গীর আলম বদর (মৃত্যুদণ্ড), মুফতি শফিকুর রহমান (যাবজ্জীবন), মুফতি আব্দুল হাই (যাবজ্জীবন) ও রাতুল আহমেদ বাবু (যাবজ্জীবন)।

সূত্র : দৈনিক অধিকার

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Theme Developed BY Ashik